SKU: deshvaage hariechi jader_other book

দেশ ভাগে হারিয়েছি যাঁদের

সন্দীপ চট্টোপাধ্যায় পেশায় একজন বাস্তুকার, থাকেন হাওড়া শহরের বনেদি অঞ্চল বালিতে। এটাই তাঁর পূর্ব পুরুষের ভদ্রাসন। বলা বাহুল্য যে তিনি একজন ঘটি, তবে ঘটি মানেই যে গেঁতো, এই প্রহেলিকাময় ধারণা ভুল প্রমাণ করেছেন সন্দীপবাবু। পায়ে তাঁর দুটো চাকা লাগানো আছে, আর পেশা-কর্মের ফাঁকে সুযোগ পেলেই তিনি বেরিয়ে পড়েন এখানে-সেখানে, তাঁর সেই চাকা দুটোতে প্যাডেল ঘুরিয়ে। আর যা দেখেন, মনঃপূত হলে কাগজে লিখে রাখার অভ্যাস বহুদিনের। এমনিই ঘুরতে ঘুরতে একদিন পৌঁছে গেলেন বাংলাদেশে, যেখানে আজকের পশ্চিমবঙ্গে স্থিত বহু বাঙালির ‘দ্যাশের বাড়ি’ ছিল। বহু বহু বিশিষ্ট মানুষের সেই দেশ দেখা শুধু নয়, আজকের বাংলাদেশ কীভাবে রেখেছে সেই সব ছিন্নমূল মানুষদের ফেলে যাওয়া দেউড়ি, কতটাই বা স্মৃতিকাতরতার অনুভব কাজ করে তাঁদের ছেড়ে যাওয়া নিকট প্রতিবেশীদের জন্য সেখানের মানুষের মধ্যে– সেটাই ছিল বরং প্রধান উদ্দেশ্য। তাই এই লিখন যতটা না ভ্রামণিক বৃত্তান্ত তার চাইতেও বেশি সমাজতাত্ত্বিক সূত্রে পুষ্ট। রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি থেকে ‘যশুরে বাঙাল’ মধুকবির বাড়ির অবশিষ্টাংশ কী ভাবে রক্ষিত আছে নিজের চোখে দেখে, ক্যামেরার চোখ দিয়ে আমাদের দেখিয়েছেন সন্দীপবাবু। পথে যেতে যেতে যেসব নদী পেরোতে হয়েছে, তাদের কথা লিখেছেন পরম যত্নে। উঠে এসেছে তীর্থস্থান, মন্দির আর মাজারের কথা। এ বাঙলার দু’-দু’জন প্রভাবশালী মুখ্যমন্ত্রী, বিধানবাবু এবং জ্যোতিবাবুর বাড়ির হাল হকিকত জানতে জানতেই পৌঁছে গিয়েছেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্রের বাড়ি রাড়ুলিতে। জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী, সুচিত্রা সেন, যাদু সম্রাট পি,সি,সরকার কিংবা শচীনকর্তার পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মজনেরা সবাই কেমন আছেন, তা উঠে এসছে এই বৃত্তান্তে। পায়রার চোখের মতো স্বচ্ছ জল কি আজও ধারণ করে কপোতাক্ষ নদী? কীর্তনখোলা নদীর জল কি আজকেও বয়ে চলেছে করতালের রিনি রিনি ধ্বনি তুলে? পথ চলতে এইসব দর্শন ও মানুষের আচার-ব্যবহার তাঁকে জানতে সাহায্য করেছে বর্ষণসিক্ত এই ভূমির চরিত্র। যা তিনি অকপটে লিখে গেছেন এই বইতে। গেছেন বেশ ক’টি সতীপীঠ-এ। কী দেখলেন, তাই লিখেছেন অতিরঞ্জন ছাড়া। এ বই থেকে আজকের বাঙলাদেশ ও তার মানুষের মন-মানসিকতা বোঝা যায়। তাঁর এই সফরে অবাক হয়েছেন সেখানকার মানুষ। যাঁর সাতপুরুষের কারুর সাথে সে দেশের যোগ নেই, তিনি কীসের টানে, কী দেখতে সেখানে গেলেন, এ প্রশ্ন শুনতে হয়েছে তাঁকে। উপরি পাওনা হিসেবে পাঠক পাবেন খান জাহান আলির মাজারের বিবরণ, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি নিয়ে একটি মনোরম আলোচনা। ওড়াকান্দির ঠাকুর বাড়ির অলিন্দে আশ্রয় নিয়ে মতুয়া আন্দোলনের উৎস বর্ণনা এক কথায় অনেক নতুন ধারণা তৈরি করে। আর এক রাতে লালন সাঁইয়ের মাজারে রাত্রিযাপন ও মীর মোশাররফ হোসেনের জন্মস্থানে মেলা দেখার অভিজ্ঞতা আমাদের ঋদ্ধ করেছে। লেখক জানিয়েছেন তাঁর এই সফর তাকে উদ্বুদ্ধ করেছে আরও এক পাল্টা সফরের। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাঁরা দেশ ভাগের পরে পূর্ববঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিলেন সেই সব মানুষের ছেড়ে যাওয়া বাড়ি-ঘর, আত্মীয়-বন্ধুরা কেমন আছেন তা নিয়ে এক অনুসন্ধান তিনি শুরু করতে চান খুব তাড়াতাড়ি। সেটি হবে এই বইটির দ্বিতীয় পর্ব। তাই এই বই কোনও খণ্ডিত ‘বাঙালপুরাণ’ বা ‘ঘটিপোনিষদ’ না হয়ে অখণ্ড বাঙলার হারিয়ে যাওয়া এক সামাজিক চেতনার অনুভূতিকে সামনে নিয়ে আসে।

৳ 630

In stock

Categories: ,
Weight 456 g
Dimensions 5.7 × 8.7 in

There are no reviews yet.

Be the first to review “দেশ ভাগে হারিয়েছি যাঁদের”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Updating…
  • No products in the cart.
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial