আর্যতর্ক একটি তাত্ত্বিক ক্রীড়াভূমি


Author : সুজিত দাশ
Publisher : আমি আর লীনা হেঁটে চলেছি
Publication Year : 2017 | Pages 507

আর্যতত্ত্ব সঠিক নয়
নাকি সঠিক?
একটি রাজনৈতিক দল একে সমর্থন করে
আর একটি করে না
বিষয়টি কি রাজনৈতিক?
কী বলেছিলেন উইলিয়াম জোনস?
কী বলেছিলেন ম্যাক্স মুলার?
কী বলছেন আজকের স্কলাররা………

৳ 900

Out of stock

হরপ্পা সভ্যতা? মেহেরগড়? নর্মদা ভ্যালি? নাকি দক্ষিণ ভারত? পূর্ব ভারত, এই বাংলা? ভারতীয় সভ্যতার সূচনা কোথা থেকে? কারা এর উত্তর পুরুষ? কারা এর পূর্ব পুরুষ? আর্য? দ্রাবিড়? সাঁওতাল কোল ভিল মুণ্ডা প্রভৃতি অস্ট্রিক উপজাতিগণ?
ইতিহাসের এইসব ‘গুরুতর’ প্রশ্নাবলী কেবলমাত্র ছাত্র গবেষক নয়, ভারতের সব রঙের সব ধরণের রাজনীতিতেই দুঃখজনকভাবে হলেও এখনও প্রাসঙ্গিক। অথচ রাজনৈতিকভাবে এত প্রাসঙ্গিক একটা বিষয় হলেও, এই ভূখণ্ডের ইতিহাসের সূচনালগ্ন ইতিহাস চর্চার সূচনালগ্ন থেকে আজও পর্যন্ত একইভাবে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। নানান গবেষণা, অসংখ্য ঐতিহাসিক সাহিত্য, বহু বই পুস্তক, তত্ত্ব, তথ্য, মতামত, মতাদর্শ সব এসে জুড়েছে বিষয়টির সঙ্গে। গবেষক ছাত্র থেকে সাধারণ পাঠক, রাজনীতিক থেকে রাইট অ্যাকটিভিস্ট, প্রত্যেকেই এই নিয়ে মতামত দেন, কিন্তু অধিকাংশ আমাদের এব্যাপারে খুব পরিষ্কার ধারণা নেই। অথবা থাকলেও তা একদেশদর্শী। ফলে অস্বচ্ছতা বেড়েই চলেছে।
‘আর্যতর্ক, একটি তাত্ত্বিক ক্রীড়াভূমি’, এই অস্বচ্ছতা কাটানোর দিকে একটি বলিষ্ঠ প্রয়াস। এই বইয়ের ২১টি অধ্যায়ে বিষয়টির বিস্তৃত আলোচনা পাঠককে নতুন করে ভাবাতে সক্ষম।
১) ভারতের প্রথম নগর সভ্যতা—এই অধ্যায়ে সিন্ধু সভ্যতার অসংখ্য অজানা দিক বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে, যা পরবর্তী সময়গুলিকে বুঝতে ইতিহাসের একজন পাঠককে সবিশেষ সাহায্য করবে।
২) সিন্ধু সভ্যতার পতন ও ধারাবাহিকতা— বর্তমান অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক ও ইতিহাস লেখকের মতে, সিন্ধু সভ্যতার পতনই হয়নি। আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিকদের সাম্প্রতিক খননকার্যে প্রাপ্ত তথ্যাবলী সহযোগে বর্তমান লেখক দেখিয়েছেন, হরপ্পার অধিবাসীরা বর্তমান ভারতীয়দের পূর্বপুরুষ—একথা জোরের সঙ্গে বলা যায়।
৩) লোকালাইজেশান—পতন যদি না হয় তো হরপ্পা সভ্যতার মানুষদের হলটা কী? এই প্রশ্নের উত্তর আছে বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে।
৪) আর্য হোমল্যান্ড: সামহোয়ার ইন এশিয়া এন্ড নো মোর—আর্যদের আদিবাসস্থান কোথায় ছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে জীবন সায়াহ্নে এসে স্বয়ং ম্যাক্স মুলার যদ্দুর পৌঁছেছিলেন, তা হল এই যে, এশিয়ার কোনও এক জায়গা। এরপর যতজন গবেষক এসেছেন, প্রত্যেকে নিজের নিজের প্রিয় এলাকাকে আর্যদের আদি বাসভূমি এই দাবী নিয়ে ভয়াবহ যুক্তিসহ আলোচনা করেছেন। কিন্তু আজও যে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি, বলাই বাহুল্য।
৫) আর্য ঘোড়াতত্ত্ব—ভারতে ঘোড়া ছিল না, আর্যরা ঘোড়ায় চেপে এসে ভারতীয় নগর সভ্যতা ধ্বংস করে, ঋকবৈদিক গ্রাম সভ্যতা পত্তন করেছিউলেন, এই হল ভারতের ইতিহাসের শুরুর দিককার সরল ন্যারেটিভ। প্রশ্ন হল, হরপ্পায় কি ঘোড়া ছিল না? পাওয়া যায়নি? উত্তর হল গেছে। ঋকবেদের যে অশ্ব তা কি Equus caballus নাকি E. f. caballus? নাকি Equus asinus? হতেও তো পারে যে অশ্ব বলতে ঋকবেদে অন্য কোনও প্রজাতিকে বোঝান হয়েছে। আবার ভীমবেটকা গুহাচিত্রে হরপ্পা আর্য আগমন কথিত সময়ের বহু আগেকার ঘোড়ায় চড়া মানুষের ছবি আজও সংরক্ষিত আছে। সুতরাং ঘোড়া-নির্ভর আর্যতত্ত্ব কতটা গ্রহণযোগ্য?
৬) আর্যতর্কের সূচনা: ইমিগ্রেশান না ইনভেশান?—আর্যরা যদি এদেশ আক্রমণ করত, তার কি কিছু চিহ্ন থাকবে না? আছে কিছু? যদি আক্রমণ নাও করত, কিন্তু বহু সংখ্যক নারী পুরুষ একত্রে আসত এদেশে, তারও তো কিছু না কিছু চিহ্ন থাকার কথা, যেগুলি প্রপ্তনতাত্ত্বিকরা দেখিয়ে প্রমাণ করতে পারবেন যে, আর্য আগমণ প্রত্নতাত্ত্বিকভাবেও প্রমাণিত সত্য। কেউ কি কোন চিহ্ন দেখিয়েছেন এযাবৎ? এই অধ্যায়ের আলোচ্য এটাই।
৭) ইনোভেশানস ইন সান্সকৃট—প্রাচীনতম আর্যভাষা কোনটি? গ্রীক, ল্যাটিন, আবেস্তান, হিটাইট, সংস্কৃত না অন্য কোনও ভাষা? ‘প্রাচীনতম আর্যভাষা’ এরকম বলাটা কি যুক্তিযুক্ত? প্রাচীনতম আর্যভাষা দিয়ে কতটা কী প্রমাণ হয়?
৮) হিটাইট ও ইউরেলিক ভাষাগুলিতে বৈদিক লোন-ওয়ার্ডস—আর্যতত্ত্বের সমর্থনে আনা দুটি তত্ত্ব একটি ল্যারিঙ্গাল থিওরি, অপরটি ইন্দো-হিটাইট থিওরি এই অধ্যায়ে খতিয়ে দেখা হয়েছে।
৯) ঋকবেদ ও আবেস্তা—ঋকবেদ ও আবেস্তার ভাষা ও অন্যান্য বিষয় তুলনামূলক আলোচনা পাঠককে সমৃদ্ধ করবে এই অধ্যায়ে।
১০) ঋকবেদে আর্যদের পূর্ববাসস্থান ও আর্য-আক্রমণপূর্ব ভারতের অনার্যজাতিসমূহের উল্লেখ—আর্যরা এদেশে আসার আগে কোথায় কোথায় ছিল, ঋকবেদে আর্য ছাড়াও অন্যান্য জাতিদের উল্লেখ আছে কি? কীভাবে আছে?
১১) প্রিসার্ভেশান প্রিন্সিপ্যাল—ভাষাতাত্ত্বিকগণ আর্যভাষার প্রাচীনতম একটি রূপ কল্পনা করেছেন। যার নাম দেওয়া হয়েছে, ‘প্রোটো-ইন্দোইওরোপীয়ান ভাষা’। আর্যদের এখনও অজানা বাসস্থানে তাদের পূজ্য দেবতাদের একটি তালিকাও প্রস্তুত করেছেন। সেই ভাষা ও তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে কোন ভাষা পুরাণ সংস্কৃতি ও লোকসাহিত্য কতটা প্রাচীনতার ছাপ ধরে রেখেছে, রাখলে কী প্রমাণ বা অপ্রমাণ হয়, সেটাই আলোচ্য এই অধ্যায়ে।
১২) লিঙ্গুইস্টিক পেলিওন্টোলজি—ইন্দোইওরোপীয়ান ভাষাগুলিতে কমন গাছ ও প্রাণিদের নাম থেকে বোঝা যায়, প্রোটো-ইন্দোইওরোপীয়ান হোমল্যান্ড ছিল এশিয়ার উত্তপ্ত এলাকা নয় বরং ইওরোপের কোন শীতপ্রধান অঞ্চলে—এরকম একটি জনপ্রিয় তর্কের কতটা সারবত্তা আছে, তা-ই এই অধ্যায়ের আলোচ্য।
১৩) সাবস্ট্রাটাম ইন সান্সকৃট—আর্যরা আসার আগে তো ভারতে আরও অন্য ভাষাবলী কথ্য ছিল? তাদের কী হল? সংস্কৃত এসে তাদের ওপর চেপে বসল ও ভাষাগুলি হারিয়ে গেল? নাকি তাদের কিছু কিছু চিহ্নাবলী রেখে গেল সংস্কৃতরই মধ্যে? সেটাই আলোচ্য এই অধ্যায়ে।
১৪) ডিরেকশান অফ এক্সপ্যানশান অফ দ্য ভেদিক এরিয়াস—ঋকবেদেই দেখা যায় যে আর্যদের পরিচিতির এলাকা ক্রমশ পশ্চিম থেকে পূর্বে বিস্তৃত হচ্ছে। ঋকবেদের শুরুর দিকের অংশের অঞ্চলগুলি সিন্ধু উপত্যকার আশেপাশে, শেষে একেবারে গাঙ্গেয় উপত্যকায় পৌঁছে গিয়েছে। ঘটনা কি তাই? সত্যি ঋকবেদে এরকমটি দেখা যায়? অন্যমত আছে? অন্যমত কী বলে?
১৫) লিঙ্গুইস্টিক তর্কের অবসান—ভাষাতাত্ত্বিকরা সত্যিই ইতিহাসের আলোচনায় শেষ কথা বলতে সক্ষম? নাকি তাদের আর্কিওলজিস্ট, অ্যানথ্রপলজিস্ট, পেলিওনটলজিস্ট, প্রাইমেটলজিস্ট, বায়োলজিস্ট, জেনেটিসিস্ট, আর্কিও-লিঙ্গুইস্ট, আর্কিওবায়োলজিস্ট, আর্কিওঅ্যাস্ট্রোনমিস্ট, রেডিওলজিস্ট, আর্কিওজুওলজিস্টদের দেওয়া তথ্যাবলীও ঢুঁরে দেখা উচিৎ? এই প্রশ্ন তুলেছেন লেখক এই অধ্যায়ে।
১৬) আর্যতর্কে জেনেটিক্স— কোন অঞ্চলে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঘটলে, তা যতদিন পরেই হোক জেনেটিক্স দিয়ে স্পষ্টভাবে প্রমাণ করা যায়। জেনেটিক্সের গবেষণা কি হয়েছে? বেশ অনেকগুলি, সব মিলিয়ে প্রায় নয় থেকে দশটি এরকম বড় মাপের সার্ভে হয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে। এখন এই সব গবেষণার ফল যদি প্রমাণ করে যে, হ্যাঁ খৃষ্টপূর্ব ১,৫০০ নতুন কোন জেনেটিক্স ইনফ্লাক্স লক্ষ করা যাচ্ছে, তো কোন প্রশ্ন নেই, আর্য আক্রমণ বা আগমন ঘটেছিল সন্দেহাতীতভাবে। যদি যদি কিছুই সেরকম না সামনে আসে? তাহলে সত্যিই কিন্তু আর্যতত্ত্বের ওপর বড় প্রশ্ন এসে যাবে।
১৭) নদী সরস্বতী—সরস্বতী নদী সত্যি ছিল? কবে নাগাদ ছিল? ঋকবেদে কী বলা হয়েছে? আর একটি সরস্বতী আছে ইরাণে? সেটাই কি ঋকবেদের সরস্বতী? কোনটি ঋকবেদের? হরপ্পা সভ্যতা সিন্ধু না সরস্বতীর কাছে ঋণী? কতটা? সরস্বতী নদীর অস্তিত্ব যদি সত্যি থেকে থাকে তো আর্য আগমণ তত্ত্ব কি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে? নাকি নয়? এরকম হাজার প্রশ্নের বিস্তারিত আলোচনা আছে এই অধ্যায়ে।
১৮) কম্প্যারেটিভ মিথলজি—“মহাভারতের আদিপর্ব ও ভগবৎ পুরাণের ঊনবিংশতি অধ্যায়ে পাওয়া যায় রাজা যযাতির গল্প। যেখানে শর্মিষ্ঠা, যযাতির স্ত্রী দেবযানীর দাসী, যযাতিকে বিবাহের অনুমতি পায় এই শর্তে যে সে কখনও সন্তানধারণ করতে পারবে না, কুমারি থাকবে। কিন্তু, সে শর্ত রক্ষা করে না। যযাতি অকালবার্ধক্যে অভিশপ্ত হয়, এবং ‘কুমারী’ শর্মিষ্ঠার কনিষ্টপুত্র পুরু তাকে রক্ষা করে, যাদু, তুর্বাসু, দ্রুহু, অনু বাকি সকল পুত্রেরা যযাতিকে উদ্ধারে অসম্মত হয়; উপহার স্বরূপ পুরু পায় যযাতির সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার, প্রতিষ্ঠিত হয় কুরু বংশ, যার পরবর্তী উত্তরাধিকার ভারতের নামে এই দেশের নামকরণ। রোমান মিথলজিতে শর্মিষ্ঠার অনুরূপ চিরকুমারিত্বে শর্তাধীন Rhea Silvia শর্ত ভেঙে গড Mars-এর সঙ্গে মিলিত হয়, ও Romulus and Remus নামক দুই পুত্রের জন্ম দেয়, যারা Rhea Silvia-র পিতা রাজা Numitor-কে উদ্ধার করে তার সাম্রাজ্য ফিরিয়ে দেবে, এদেরই নামে রোমান সাম্রাজ্য, এরাই প্রতিষ্ঠা করবে রোম। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান ও কেলটিক মিথলজিতেও এরূপ ‘কুমারী’ মাতার সন্তান ধারণ ও তাদের দ্বারা রাজোদ্ধারের গল্প আছে”। এরকম বহু পৌরাণিক চরিত্রের মিল-অমিল নিয়ে একটি মনোজ্ঞ আলোচনা এই অধ্যায়ের বৈশিষ্ট্য। কী প্রমাণ হয় এইসব মিল থেকে, কেনই বা এদের মিল, কতটা মিল—সব জানতে বইটি পড়তে হবে।
১৯) বহিঃভারতে আর্য বসতির প্রমাণাদি—আর্যরা যদি অন্যদেশ থেকে এদেশে এসে থাকে, তো বাইরের সেই দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সঙ্গে এদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মিল পাওয়ার কথা, পাওয়া গেছে নাকি এরকম কিছু? সেটাই জানা যাবে এই অধ্যায়ে।
২০) ঋকবেদের সময়কাল—ঋকবেদ কোনসময় উদ্ভূত হয়েছিল? ম্যাক্স মুলারের মত কী? কিভাবে তিনি গণনা করেছিলেন ঋকবেদ উদ্ভবের সময়টিকে? সেই সময় নির্ধারণ নির্ভুল ছিল? থাকলে কীভাবে, না থাকলে কোনটা নির্ভুল? নির্ভুল সময় গণনা আদৌ সম্ভব? কে কী বলছেন? ফাইনালি ঋকবেদের সময় তবে কী দাঁড়াচ্ছে? প্রবল তর্কময় এই অধ্যায় পাঠককে উত্তেজিত করবে নতুন অনেক তথ্য জানতে!
২১) মাইগ্রেশান না ডফিউশান?—আর্য আগমণ হয়েছিল না হয়নি? হয়েছিল মেনে নিলে অসুবিধা কী? না হলে ইওরোপ থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত এত বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীগুলির এরকম ভাষাগত মিল কীভাবে সম্ভব? একটি পরিবার থেকে এত মানুষের ভাষা এসেছে? এটা সম্ভব? না সম্ভব হলে কি অন্য সম্ভাবনার কথা ভাবা যায়, কেউ কেউ কি ভাবছেন? বইয়ের শেষ অধ্যায় এই নিয়েই আলোচনা করেছে।
Weight 0.523 g
Dimensions 5.6 × 8.5 in

There are no reviews yet.

Be the first to review “আর্যতর্ক একটি তাত্ত্বিক ক্রীড়াভূমি”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Updating…
  • No products in the cart.
Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial